উপেক্ষিত মুক্তিযুদ্ধ উপেক্ষিত জনগণ


একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শ্রেষ্ঠতম অর্জন। সেদিন বাংলাদেশের মানুষ সীমাহীন ত্যাগ ও সাহসের পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিল, ন’মাসের সম্মুখ সমরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছিল, তা বিস্ময়কর! দুঃখজনক হলেও সত্য, জাতির সেই গৌরবদীপ্ত ইতিহাস আজ ম্লান। মুক্তিযুদ্ধ উপেক্ষিত, উপেক্ষিত মুক্তিযুদ্ধের মূল নায়ক জনগণ। মুক্ত স্বদেশে হাজারও সংকটে আবর্তিত। সেই উপেক্ষিত জনগণের একজন হয়ে পত্র-পত্রিকায় লিখছি।বইয়ের অন্তর্ভুক্ত নিবন্ধগুলো ২০০১ সালের শেষার্ধ ও ২০০২ সালে দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত। লেখাগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভাবনার কথা বলেছি, জনগণের ক্ষোভ-যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেছি, উত্তরণের পথও খুঁজেছি। তবে পত্রিকায় লিখতে হয়েছে নির্দিষ্ট পলিসির মধ্যে থেকে। তাই সব কথা বলা সম্ভব হয়নি। অনেক কিছুই অব্যক্ত রয়ে গেল। নিবন্ধগুলো পত্রিকায় যে অবয়বে প্রকাশিত হয়েছিল এর সঙ্গে নতুন কিছু সংযোজন করিনি। তবে প্রসঙ্গের পুনরাবৃত্তি ও অপ্রয়োজনীয় বিবেচনায় কিছু কাটছাঁট করেছি। কয়েকটি লেখার শিরোনাম ছিল দীর্ঘ, সঙ্গত কারণেই নতুন শিরোনাম দিয়েছি।
ম্যাগনাম ওপাসের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার ফরিদী বইটি প্রকাশ করায় আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ। যমুনা প্রিন্টিং প্রেসের স্বত্বাধিকারী বন্ধুবর ডা. শ ম কবীরের সহযোগিতা ভিন্ন বইটি দ্রুত প্রকাশ করা সম্ভব হতো না। ব্যস্ততার মধ্যেও বইটির প্রচ্ছদ এঁকে দিয়েছেন খ্যাতিমান অঙ্কনশিল্পী ধ্রুব এষ। কম্পিউটারে কম্পোজ করে পাণ্ডুলিপি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন স্নেহভাজন মোহাম্মদ মাহমুদ রাজু। ভুলত্রুটি শুধরে দিয়েছেন দুই তরুণ সাহিত্যসেবী মোহাম্মদ আলী ও রনক মোহাম্মদ রফিক। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্য তাদের সবার প্রতি। আমার স্ত্রী শামীমা খানের সহযোগিতা বহুমাত্রিক, তাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিব্রত করব না। কিছু ভুলত্রুটি হয়তো রয়ে গেল, পাঠক ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে খুশি হব।
প্রকাশক : ম্যাগনাম ওপাস, মূল্য ৮০ টাকা