আজফার হোসেন-এর রিভিয়্যু

পশ্চিমা নন্দনতত্ত্বের একটি বিশেষ ধারার গোলামি করতে গিয়ে আজও একদল তথাকথিত রুচিশীল ‘শিল্পবোদ্ধা’ স্লোগানকে ভাষার গায়ে দুর্গন্ধ-ছড়ানো ময়লা হিসেবে বিবেচনা করে। এদেরকে উদ্দেশ করেই একবার লড়াকু ফিলিপাইনি কবি হোসে মারিয়া সিসন্ বলেছিলেন, ‘হে নাক-সিটকানো পাতি-বুর্জোয়া শিল্প-খরিদ্দার!/ তবে স্লোগানই হোক এ সময়ের ভাষা/জনগণের আদিম চিৎকার/ সবচেয়ে রক্তলাল কবিতার মোক্ষম অস্ত্র!’

স্লোগানে স্লোগানে রাজনীতি


স্লোগানকে কেবল স্লোগান বলে উড়িয়ে দেওয়ার রেওয়াজ আয়েশি নান্দনিকতার ঘোরে ঘুরপাক-খাওয়া এক দল মানুষের মধ্যে বেশ চালু আছে। এরা বিভিন্ন ভাবেই বিভিন্ন ধরনের স্লোগানকেও এক করে গুলিয়ে ফেলে। এদের কাছে বহুজাতিক কোম্পানির স্লোগান আর জনতার রক্তের স্পন্দন থেকে উঠে-আসা কিংবা দারুণভাবে টগবগ-করা স্লোগান সমার্থক হয়ে ওঠে। এখানে এ-ও না বলে উপায় নেই যে, পশ্চিমা নন্দনতত্ত্বের একটি বিশেষ ধারার গোলামি করতে গিয়ে আজও একদল তথাকথিত রুচিশীল ‘শিল্পবোদ্ধা’ স্লোগানকে ভাষার গায়ে দুর্গন্ধ-ছড়ানো ময়লা হিসেবে বিবেচনা করে। এদেরকে উদ্দেশ করেই একবার লড়াকু ফিলিপাইনি কবি হোসে মারিয়া সিসন্ বলেছিলেন, ‘হে নাক-সিটকানো পাতি-বুর্জোয়া শিল্প-খরিদ্দার!/ তবে স্লোগানই হোক এ সময়ের ভাষা/জনগণের আদিম চিৎকার/ সবচেয়ে রক্তলাল কবিতার মোক্ষম অস্ত্র!’ মারিয়া সিসন এখানে গণমানুষের রাজনৈতিক স্লোগানের কথা বুঝিয়েছেন, যাকে তিনি জীবনের জন্য নিঃশ্বাসের মতোই অনিবার্য ভেবেছেন। তাহলে স্লোগান তো কেবল স্লোগান নয়। স্লোগান হতে পারে একই সঙ্গে ভাষিক, সামাজিক, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক টেক্সট, যার রয়েছে ব্যবহারিক মূল্য। এবং এই স্লোগান সমাজে সঞ্চারিত হয়ে লাভ করতে পারে একই সঙ্গে বস্তুকতা ও ব্যঞ্জনা। আর রাজনীতি, সমাজ ও ইতিহাসকে পাঠ করার একটা কার্যকর উপায় হতে পারে স্লোগানের পঠন নিজেই। এ বিষয়গুলো-অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে- প্রাঞ্জল ভাষায় ধরিয়ে দিয়েছেন আবু সাঈদ খান, তার স্লোগানে স্লোগানে রাজনীতি নামের বইয়ে। বইটি এ বছরেরই ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশ করেছে অঙ্কুর প্রকাশনী ।
কিন্তু ইতিহাস আপনা আপনি হাজির থাকে না, তাকে তো জীবন্ত রাখতে হয়। ইতিহাসকে জীবন্ত করার কাজটাই করেছেন আবু সাঈদ খান, তুলনামূলকভাবে এক অসনাতন পরিসরে। আর কাজটা করেছেন এমনি এক সময়ে যখন একটি অগণতান্ত্রিক সরকার গণতন্ত্রের দোহাই পেড়ে বিরাজনীতিকীকরণের প্রক্রিয়াকে কায়দা করে জারি রেখে ইতিহাস মুছে ফেলার স্পেস তৈরি করেছে। কিন্তু আবু সাঈদ খানের বইটি মনে করিয়ে দেয় ইতিহাসের ওই জ্বলে-ওঠা মুহূর্তটিকে যখন ‘প্রেসিডেন্ট আইউব খানের সবুজ বিপ্লবের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ভুট্টা চাষকে উৎসাহিত করা হয়। তখন রটে যায় ভুট্টা খেয়ে পাবনায় কয়েকজন লোক মারা গেছে।’ তখন জনগণের স্লোগান ওঠে : ‘আমরা বাঙালি/ভুট্টা খাই না।’ স্লোগানটির জোগান দিয়েছে ওই বইটি, যা ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে উচ্চারিত ও লিখিত কয়েক শ’ স্লোগানকে জড়ো করে ওই স্লোগানগুলোকে যেন ইতিহাসের এক অব্যাহত ও অপ্রতিরোধ্য মিছিলে রূপান্তরিত করেছে। এই স্লোগানগুলোর সঙ্গে ইতিহাসের সম্পর্ক বোঝাতে গিয়ে একটি মনে রাখার মতো চিত্রকল্প হাজির করেছেন লেখক : কালের দেয়ালের দাগ।
কিন্তু আবু সাঈদ খানের বইটিকে কেবল বিভিন্ন স্লোগানের একটি নাতিদীর্ঘ সংকলন বলাটাই যথেষ্ট নয়। কেননা বইটির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিমিষেই চোখে পড়ে। প্রথমটি হচ্ছে ‘ভূমিকা’, দ্বিতীয়টি হচ্ছে পাদটীকাসহ স্লোগানের সংকলন আর সর্বশেষটি হচ্ছে একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা, যার পরে রয়েছে ‘পরিশিষ্ট’- একটি নয়, পাঁচটি। পরিশিষ্ট নিয়ে পরে কিছু কথা বলা যাবে। কিন্তু এখন বইয়ের ভূমিকার দিকে একটু তাকানো যাক।
একটি কার্যকর বা মন-ও-দেহ-টানা স্লোগান যে ধরনের ভাষিক পরিমিতি ও ছন্দ দাবি করে, সেই পরিমিতি ও ছন্দ নিজেই যেন উপস্থিত থাকে আবু সাঈদ খানের ভূমিকায়- তার ভাষায়। লক্ষ্য করা যাক প্রথম বাক্যটি : ‘স্লোগান হচ্ছে সম্মিলিত আওয়াজ বা জিগির।’ এখানেই শেষ নয়। সাঈদের আরেকটি বাক্য : ‘জনগণ তাদের গরজে স্লোগান তৈরি করে।’ স্লোগান নিজেই যে ইতিহাসের শাঁস, তা স্পষ্ট করেই ধরিয়ে দেন লেখক। তবে হ্যাঁ, বিভিন্ন ধরনের স্লোগানের কথা বললেও লেখকের এক ধরনের পক্ষপাতও দাঁড়িয়ে যায়। সেই পক্ষপাত জনগণের সংগ্রামের ভেতর থেকে উঠে-আসা স্লোগানের প্রতি। সেই স্লোগান কখনো রক্ত-বলকানো, কখনো পরিচয়-সন্ধানী, কখনো সরাসরি মারমুখো। তবে দুনিয়ার সবচেয়ে সাড়া-জাগানো স্লোগানকে তিনি ধরিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। সেটি হলো : ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও!’ অবশ্যই সাঈদের জোর গিয়ে পড়েছে বিশেষ করে রাজনৈতিক স্লোগানের ওপর। তিনি সেই স্লোগানের একটি বিন্যাসকেও উপস্থিত করেন এভাবে : ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের স্লোগান, জাতীয় স্লোগান, দলীয় স্লোগান, মোর্চা বা মুক্তমঞ্চের স্লোগান, আন্দোলনের শ্রমিক বা পেশাজীবীদের স্লোগান।’ আমাদের অঞ্চলে বিভিন্নভাবে উৎপাদিত নানা রকম স্লোগানের ভেতর দিয়ে একদিকে যেমন সাঈদ আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসকে পাঠ করেন, অন্যদিকে তেমনি তিনি স্লোগানের ইতিহাসকেও অল্প পরিসরে হলেও ধরার চেষ্টা করেছেন বটে। কবি ভারতচন্দ্রের প্রার্থনা, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে থেকে’ শুরু করে মওলানা ভাসানীর ‘খামোশ’ এবং শেখ মুজিবের ‘একগুচ্ছ ঝাঁঝালো স্লোগানের’ ভেতর দিয়েই সাঈদের ইতিহাস-লিখন চলে আসে নূর হোসেনের নিজের দেহেই টগবগ-করে-ফোটা, দেহে-লেখা স্লোগান ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ পর্যন্ত। এই স্লোগানেই, আমরা জানি, একই সঙ্গে দেহ, হরফ আর বুলেট একাকার হয়েছিল ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের এক বিস্ফোরক মুহূর্তে। কিন্তু সাঈদ জানাচ্ছেন যে, দেহ ঝাঁঝরা-করা বুলেটের চেয়েও আরো শক্তিশালী হয়ে থাকে দেহ থেকেই উৎসারিত-হওয়া নূর হোসেনের স্লোগান, যা হয়ে উঠেছিল জনগণের সম্মিলিত জিগির। এভাবে অবশ্যই বলা যাবে যে, আবু সাঈদ খান একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু চমৎকার ও গতিশীল ‘ভূমিকা’ আমাদের উপহার দিয়েছেন, যেখানে তিনি স্লোগানের ভেতর দিয়েই যেন ইতিহাসের শাঁস বের করে আনতে চাইছেন, যে ইতিহাস চূড়ান্ত দৃষ্টান্তের মানুষের ইতিহাস বলেই তা শ্রেণী সংগ্রামেরও বটে।
এবারে আসি সাঈদের জড়ো-করা স্লোগানে। অবশ্যই স্লোগানগুলোর নির্বাচনে সাঈদের ইতিহাস-চেতনা সক্রিয় থেকেছে। স্লোগানের নির্বাচনের ভেতর দিয়ে লেখক দেখিয়ে দেন স্লোগানের জাতীয়, সামাজিক, দলীয় এবং অবশ্যই শ্রেণী-চরিত্র। এছাড়াও যাদের ইতিহাস সবচেয়ে বেশি অলিখিত থাকে, যাদের ইতিহাসে নৈঃশব্দ্য নিজেই টগবগ করে ফুটতে থাকে, তাদের স্লোগানকেও সামনে এনেছেন আবু সাঈদ খান। অর্থাৎ নারী ও আদিবাসীদের স্লোগানকে তিনি উপস্থিত করেছেন। প্রথমত, সাঈদের একটা বিশেষ কৃতিত্ব এই জায়গায় যে, তিনি অনেক হারিয়ে-যাওয়া স্লোগানকে সামনে আনার ভেতর দিয়ে আমাদের অনেকের স্মৃতিকে ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত করেছেন। লেখক মিলান কুন্ডেরার কথাও মনে পড়ে : ‘আমাদের সংগ্রাম হচ্ছে ভুলে থাকার বিরুদ্ধে সংগ্রাম।’ সেই সংগ্রামে শরিক হয়েই আবু সাঈদ খান পাকিস্তান-আন্দোলনের স্লোগানকে সামনে এনেছেন, যেমন এনেছেন তিনি কৃষক আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৩ সালের শহীদ দিবস, কাগমারি সম্মেলন, ষাটের দশকের প্রথমার্ধে ছাত্র আন্দোলন, দাঙ্গাবিরোধী আন্দোলন, স্কুলছাত্র দলের আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতার যুদ্ধসহ বিভিন্ন ডানপন্থি ও বামপন্থি রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র সংগঠনের স্লোগান।
এইসব স্লোগানের ভেতর দিয়েই বিশেষ করে ধরা পড়ে একদিকে যেমন ডানপন্থি রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্তঃসারশূন্যতা ও আদর্শিক দেউলিয়াপনা, অন্যদিকে তেমনি স্পষ্ট হয়ে ওঠে ইতিহাসে সর্বসাধারণের অনিবার্য সম্মিলিত কণ্ঠস্বর, যে কণ্ঠস্বর প্রমাণ করে এটাই : কিছু মানুষকে কিছু সময় দাবিয়ে রাখা সম্ভব; এমনকি সব মানুষকেই কিছু সময় হয়তো দাবিয়ে রাখা সম্ভব; কিন্তু সব মানুষকে সব সময়ই দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এবার লক্ষ্য করা যাক এই স্লোগানটি : ‘আটার রুটি কলের পানি/রাত পোহালে টানাটানি/এক পোয়া দুধে তিন পোয়া পানি/আউইব হালার মুসলমানি।’ অথবা ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষকালীন স্লোগান : ‘আট টাকা সের আটা/নৌকার তলি ফাটা।’ কিংবা জিয়া-বিরোধী আন্দোলনের স্লোগান : ‘চালের দাম বাড়িয়ে আর্মি পোষা/চলবে না চলবে না।’ বলাই বাহুল্য, এসব স্লোগান যে ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে ধারণ করে তার সঙ্গে সমকালীন বাস্তবতার এক অর্থে সমস্ত দূরত্ব ঘুচিয়ে দেয় ওই স্লোগানগুলো নিজেই। এছাড়া সাঈদ বিশ্বায়নবিরোধী আন্দোলনের স্লোগানও সামনে আনেন । যেমন : ‘বিদেশি প্রেসিক্রিপশনে/উন্নয়ন হবে না।’ অন্যদিকে সাঈদ পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার আন্দোলনের প্রচুর স্লোগান জড়ো করেছেন; যেমন- ‘আমরা সবাই জুম্মু সেনা/ভয় করি না বুলেট বোমা।’ কিংবা ‘নারী ধর্ষণ, অপহরণের/বিচার চাই বিচার চাই।’
উদাহরণ বাড়ানো সম্ভব, তবে পরিসরের অভাবে তা এখানে সম্ভব নয়। তাহলে গ্রন্থের শেষে চলে আসতে হয়, যেখানে আবু সাঈদ খান একটি চমৎকার পর্যালোচনা উপহার দিয়েছেন। এই পর্যালোচনায় তিনি স্লোগানের মধ্যস্থতায় ১৯৪৭ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ইতিহাসের আঁকিবুঁকিকে একটি প্রাঞ্জল আখ্যানে রূপান্তরিত করে দেখিয়েছেন কীভাবে স্লোগান দিয়ে দল চেনা যায়, যেমন চেনা যায় নির্দিষ্ট সময়ের রাজনীতি ও আন্দোলনের রূপ ও স্বরূপকে। এই পর্যালোচনায় একই সঙ্গে উপস্থিত থাকেন ইতিহাসের একজন ঘনিষ্ঠ পাঠক, সাক্ষাৎ অভিজ্ঞতায় জারিত-আন্দোলিত রাজপথে-নামা একজন রাজনৈতিক অ্যাকটিভিস্ট, একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অবশ্যই একজন চোখ-কান খুলে-রাখা অনুসন্ধানী সাংবাদিক। পর্যালোচনার পরেই আসে পরিশিষ্ট, যেখানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ইতিহাসের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দলিল : ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা; আওয়ামী লীগের ছয় দফা; কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা; ১৫ দল ও ৭ দলীয় জোটের ৫ দফা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা।
স্লোগানে স্লোগানে রাজনীতি বইটি এভাবে ইতিহাসের একটি দ্বন্দ্বাকীর্ণ ও সংকটাপন্ন পর্বে ঐতিহাসিকতাকে ইতিহাস বদলের একটি শর্ত হিসেবে হাজির করে, যে ঐতিহাসিকতার আবার কোনো অর্থ দাঁড়ায় না সর্বসাধারণের সক্রিয় ও সচেতন রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ছাড়া। বইটিতে আমার ব্যক্তিগত আগ্রহের দু-একটা কারণ উল্লেখ না করে পারছি না। পণ্য-ফেটিশিজমের যুগে কিংবা ইতিহাস মুছে ফেলার গোলকায়িত আগ্রাসনের সময়ে, যে স্লোগানগুলো ওই বইটি জড়ো করেছে, সেগুলো ইতিহাসের চিহ্ন হয়ে জ্বলজ্বল করতে থাকে অসমাপ্ত পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাথী হয়েই। এছাড়া স্লোগানগুলো নিজেই আমার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের গবেষণাকে সহায়তা করে চলেছে। আরেকটি কথা : বইটি একেবারেই আড়ম্বরহীন এবং ক্ষেত্রবিশেষে বেশ চাছাছোলা। বইটি আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য আবু সাঈদ খানকে সাধুবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
সূত্র : কালের খেয়া, সমকাল